ভাবনা-দুয়ার 

বিজ্ঞান ও ইসলাম : অন্তিম সংঘাত (শেষ অংশ)

 পূর্বপ্রকাশের পর


ই পুরো পৃথিবী জুড়েই মানুষের মধ্যে ভাষা এবং সংস্কৃতির অনেক বিভিন্নতা রয়েছে, এই ভিন্নতার মধ্যেই বিজ্ঞান তার নিজস্ব ভাষা ও গতি দিয়ে গোটা বিশ্বজুড়ে কম বেশী তার শক্ত শিকড় গড়ে নিয়েছে। শুধুমাত্র বেশ কয়েকটি ইসলামিক রাষ্ট্র ছাড়া, যেখানে কোরানের আইন আজোও রাজত্ব করছে। আজ আমি ধর্ম আর বিজ্ঞানের দ্বন্দ্বের সেরকম একটি গল্পই বলবো।

এরপরও, তিউনিসায়ার বিজ্ঞানের প্রতি সর্মথনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যেসব প্রকল্পের উদ্দেশ্য থাকে শুধুমাত্র জ্ঞান অন্নেষণ, সেসব প্রকল্পকে কোন ধরনের সহায়তা দেয়া হয় না। বৈজ্ঞানিক গবেষনা, প্রযুক্তি ও সার্মথ্য উন্নয়ন মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী তাইব হাদরী, যিনি ২০০৪ সাল থেকে এই মন্ত্রনালয়টি তৈরী হওয়া অব্দি ক্যাবিনেটের পদে আছেন বলছিলেন, প্রত্যেকে শুধু মৌলিক গবেষণা করতে চায়। আমি একজন প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত গণিতবিদ এবং আমিও মৌলিক গবেষনা করতে চাই। কিন্তু সেটা হবে আমাদের পরের ধাপ। কিন্তু এখন আমাদের ব্যবসার জন্য প্রযুক্তির দরকার বেশী।
চিকিৎসক ও প্রজননবিদ
(geneticist) হাবিবা বোওহামেদ চৌবানি একাধারে তিউনিস বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা বিজ্ঞান শাখার একজন গবেষক, শিক্ষিকা ও রাজধানীর কেন্দ্রে অবস্থিত চার্লস নিকোলস হাসপাতালের একজন কর্মরত চিকিৎসক। তাঁর সাথে কথা বলে আমার মনে হলো বিজ্ঞানের যাত্রা এখানেও সনাতনপন্থীদের টানা হ্যাচরা থেকে সর্ম্পূন মুক্ত নয়। তিনি ২০০৬ সালে বিজ্ঞানে নারীদের অবদানের জন্য দেয়া পুরস্কার ‘L'Orιal-UNESCO’ এর বিজয়িনী। তিনি বংশানুক্রমিক ব্যাধি নিবৃত্ত করার গবেষনার জন্য এ পুরস্কার লাভ করেন। পাচজন নারীকে ১০০,০০০ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার প্রদান করা হয়েছিল। এই পাচজনের প্রত্যেকেই তাদের স্ব স্ব মহাদেশকে উপস্থাপন করছিলেন। যখন তিনি তার কর্মস্থলে আমাকে সাদর সম্ভাষণ জানান, তখন তিনি ল্যাবটরীর একটি সাদা গাউন পরা ছিলেন। যে টেস্ট টিউবগুলো রোগীদের আটকে পড়া ডি,এন,এ গুলোকে আলাদা করতে জোর গতিতে ঘুরে যাছিলো, যেগুলো তিনি পরে পরীক্ষা করবেন।

চৌবানি ১৯৭০ দশকের মধ্যভাগে তার কর্মজীবনের প্রথমদিকের কথা বলছিলেন, যখন অনেক বাচাকেই তিনি বিকলাঙ্গতার শিকার হতে দেখেছিলেন। তিনি বলছিলেন, এটা খুবই দুঃখজনক, আমি দু, তিন, চার ভাইবোন এরোগে আক্রান্ত এমন পরিবারও দেখেছি। আমি এই সমস্যার প্রতিকার করতে চাছিলাম, কি করে এর থেকে পরিত্রান পাওয়া যায়, সে চেষ্টা করতে চাছিলাম। সে সময় জেনেটিক্স নিয়ে কাজ করার কোন সুযোগ এখানে ছিল না, প্রায় দু দশক ধরে সরকারী কর্মকর্তাদেরকে প্রভাবিত করার কঠিন প্রচেষ্টা চালিয়ে তিনি এ সুযোগ তৈরী করেন। আমরা ভালো পরিবেশ ও কাজ করার সুযোগ চাছিলাম। তারাও অনুধাবন করলেন আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতনামা চিকিৎসা জার্নালগুলো আমাদের লেখা প্রকাশ করছে। আমার মনে হয় অবশেষে নীতি নির্ধারকরা উন্নত গবেষনার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন।
তিউনিসিয়ার জেনেটিক্স-চিকিৎসক গোষ্ঠীতে ১০০ জনের মতো চিকিৎসক ও প্রযুক্তিবিদ আছেন যারা সমস্ত আরব দেশের তুলনায় সবচেয়ে বেশী গবেষণাপত্র প্রকাশ করে থাকেন। হাস্যেজ্জ্বল মুখে চৌবানি বলছিলেন, ‘আমাদেরকে
PubMed -এ স্বীকৃতি দেয়া হয় এবং আমরা মিশর থেকে এগিয়ে আছি। পরিমান দিয়ে নয় কারণ মনে রাখবেন আমরা তুলনায় আকারে তাদের মাত্র এক দশমাংশ।’
গত তিরিশ বছর ধরে চৌবানি দেখছেন, একসময় যারা তার কথার প্রতিবাদ করতেন এখন তারা কিভাবে তার কথার অনুসারী হতে শুরু করেছেন। একটা সময়ে প্রজনন এর উপর কোন উপদেশ নেয়া কিংবা এ সমন্ধে কোন চিকিৎসা নিতে আসাকে সামাজিকভাবে নিষিদ্ধ গণ্য করা হতো। কিন্তু এটা এখন সামাজিকভাবে অনেক বেশী গ্রহন যোগ্য এবং যে সমস্ত বিষয়গুলোকে আগে একদম সাদা চোখে অবহেলা করা হতো বা কখনও কোন গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হতো না, যেমন অটিজম আক্রান্ত শিশু, যেটা অনেকের মধ্যেই চিহ্নিত করা যায়, এগুলো নিয়ে এখন প্রায়ই খোলামেলা আলোচনা হচ্ছে।
এগুলো নিয়ে চৌবানি এখনও প্রায়ই লক্ষ্য করেন কিভাবে তার উপদেশ রোগীদের চিরন্তন বিশ্বাসের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। অন্যান্য আরব ও মুসলমান দেশের মতো, তিউনিসিয়াতেও জন্মগত ব্যাধির প্রকোপ অনেক বেশী, তারমধ্যে বৃক্কীয় ও রক্ত সমন্ধীয় জটিলতাও অন্তর্ভুক্ত, এর কারণ হিসেবে নিকট-আত্মীয় স্বজনের মধ্যে বিবাহকে তিনি আবিস্কার করেন।
এখানে এবং আরব বিশ্বের সমস্ত জায়গায়, রক্ত সর্ম্পকের ভাইবোনদের মধ্যে বিয়ে এমনকি আপন চাচাতো ভাইবোনদের মধ্যেও বিয়ে করা, এটি একটি সাধারণ প্রথা । তিনি বলছিলেন যদিও অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে এটি এখন কমছে। এটার মানে, ইতোমধ্যেই তারা তাদের পূর্ব পুরুষদের একই রকম অসংখ্য জীনের অংশীদার।
অন্যান্য ক্ষেত্রে, বিশুদ্ধ গবেষণাকে পরিপূর্ণ সহায়তা দেয়া হয় না। প্রজনন চিকিৎসা শাস্ত্রে এমনকি ব্যবহারিকভাবে প্রযোজ্য জ্ঞানও ইসলামিক প্রথার সাথে বির্তকের জালে জড়িয়ে যেতে পারে। চৌবানি বলছিলেন, অস্বাভাবিকতা পরীক্ষার জন্য রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা কোন কঠিন কাজ নয়, সেটা শুধুই অনুসন্ধান। কিন্তু যখন পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে ক্লিনিকে রোগীদেরকে প্রজনন সমন্ধে উপদেশ দিতে যাই সেখানেই সমস্যার শুরু হয়। সেখানে এমন লোকও থাকে যারা বাচ্চা নেয়া বন্ধ করা কিংবা কাছের স্বজনদের মধ্যে বিয়ে না করার উপদেশ মেনে নিতে পারে না।
আজকাল জন্মপূর্ব পরিস্থিতি যাচাই এবং প্রজনন পরীক্ষা অনেক বিশদভাবে সমাজে গ্রহণযোগ্যে এবং আজকাল মায়েদের জীবন রক্ষার্থে ডাক্তাররা গর্ভনাশের ব্যবস্থা করে দেন। ইসলামিক আইন চিকিৎসা সংক্রান্ত কারণে ১২০ দিন পর্যন্ত ভ্রুনের গর্ভ নষ্ট করার অনুমতি দেয় (যেখানে মায়ের জীবন ঝুকির সম্মুখীন); বলা হয় হয় সে সময়কাল পর্যন্ত ভ্রুনের আত্মা থাকে না, নইলে সে গর্ভ নষ্ট নরহত্যার সমান অপরাধ। চৌবানির জন্য প্রধান সমস্যা হলো মত পরিবর্তন করানো। তিনি বললেন, ‘তারা যুক্তি খুজতে থাকে কিভাবে আমাকে ভুল প্রমাণিত করা যায়’। তারা অন্য ডাক্তারের কাছে যায়। অবশেষে তারা গতানুগতিকভাবে আমাদের উপদেশই মানেন, কিন্তু এটা অনেক কঠিন কারণ আমি তাদেরকে খারাপ সংবাদ দিচ্ছি যেটা তাদের চিরাচরিত বিশ্বাসের বিপক্ষে যেতে পারে।

মোহাম্মেদ হাদ্দাদ, তিউনিসের ডি লা মানোওবা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ইসলামিক বিশেষজ্ঞ, অনেক ছোট ছোট আকস্মিক আঘাতের কথা উল্লেখ করলেন যেগুলো সাধারণ মানুষের মনকে বৈজ্ঞানিক সুবিধার প্রতি বিমুখ করে তুলতে পারে। উদাহরনস্বরূপ, সম্প্রতি একজন শেখ ঘোষণা দিয়েছেন তিনি কোরানের আলোকে এইডস এর ঔষধ খুঁজে পেয়েছেন। তিনি ইয়েমেনের বাসিন্দা কিন্তু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তিনি আমাদের নসিহত করেন, এবং এগুলো এখন বড় ব্যবসা। হাদ্দাস বলছিলেন, সমস্যা হল, সাধারণ লোক তাদের কথা শুনছে। এ সমস্ত ব্যাপার স্যাপার চলতে দিলে অনেক লোক মারা যাবেন।
আম্মান, জর্দানঃ কোরানে বলা আছে ‘পড়ো’  কিন্তু কোথাও এটা বলা হয়নি যে কোরানকে পড়ো। ১৯৭০ সালে জর্দানের সবচেয়ে বড়ো গবেষনা কেন্দ্র ‘দি রয়্যাল সায়েন্টিফিক সোসাইটির’  একজন প্রতিষ্ঠাতা জনাব প্রিন্স আল হাসান বিন তালাল বলছিলেন, বলা আছে শুধু পড়ো। হাসান সিংহাসনের উত্তরাধিকারী ছিলেন যতদিন না তার ভাই রাজা হুসেন তাকে উপেক্ষা করে নিজের ছেলে আবদুল্লাহকে সিংহাসনে বসিয়েছেন। ষাটোর্ধ্ব যুবরাজ যিনি উচমানসম্পন্ন আরবী ও অক্সফোর্ড ইংরেজীতে কথা বলেন এবং বাইবেলের হিব্রু পড়েছেন তিনি জর্দানে যে সমস্ত ভুল ভ্রান্তি হচ্ছে তার একটি পুর্ন তালিকা দিতে পারেন। পশ্চিমা সরকারী এবং বেসরকারী সংস্থাগুলো থেকে যে সমস্ত সাহায্যের প্রস্তাব আসে, সে সমস্ত সমস্যার কারণগুলোকে চিহ্নিত পর্যন্ত করা হয় না বরং সেগুলোকে ঠিকমতো না পড়াই একটি প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি নিজে খুবই পড়ুয়া একজন, আমাদের চল্লিশ মিনিটের উপরের সাক্ষাতের সময়ের মধ্যেই তিনি কিরকেগার্দ, কারেন আর্মস্টঙ্গের এ হিষ্টোরী ওফ গড এবং ১৯৩৯ সালে তার স্ত্রীর আত্মীয় সাউদ হাসানের লিখিত হোয়াট প্রাইস টলারেনস এর কথা উল্লেখ করেন।


ই পুরো পৃথিবী জুড়েই মানুষের মধ্যে ভাষা এবং সংস্কৃতির অনেক বিভিন্নতা রয়েছে, এই ভিন্নতার মধ্যেই বিজ্ঞান তার নিজস্ব ভাষা ও গতি দিয়ে গোটা বিশ্বজুড়ে কম বেশী তার শক্ত শিকড় গড়ে নিয়েছে। শুধুমাত্র বেশ কয়েকটি ইসলামিক রাষ্ট্র ছাড়া, যেখানে কোরানের আইন আজোও রাজত্ব করছে। আজ আমি ধর্ম আর বিজ্ঞানের দ্বন্দ্বের সেরকম একটি গল্পই বলবো।

তিনি অকপটে আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীদেরকে ‘সমাজের আবর্জনা’ হিসেবে অভিহিত করছিলেন আর প্রশ্ন করছিলেন তাদের বৈধতা সম্পর্কে যারা পৃথিবীকে নবীর সময়ের ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। তিনি প্রশ্ন করছিলেন আমরা কি ‘ইসলাম’ নিয়ে নাকি ‘ইসলামিজম’ নিয়ে কথা বলছি, তিনি ধর্ম আর নিজের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য ধর্মকে ব্যবহার করা চরমপন্থী সুযোগ সন্ধানীদের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে কথা বলছিলেন। ইসলামী চরমপন্থীদের দ্বারা যে বিপদের সৃষ্টি তার ভয় শুধু খ্রীষ্টানদের নয়, খোদ মুসলমানদেরই আছে। আরব - ইস্রায়েল সমস্যা আসলে প্রকৃত কারণ নয়, প্রকৃত কারণ হলো উগ্র ইসলামিজমের উথথান।
প্রিন্স হাসান বিশ্বাস করেন, দেশের ভবিষ্যত স্বাছন্দ্য নিশ্চিত করার জন্য ধর্মকে বাদ দিয়ে বিজ্ঞানকে অনুসরণ করা উচিৎ এবং তিনি ব্যক্তিগত লক্ষ্য হিসবে গত প্রায় চল্লিশ বছরের বেশী সময় ধরে দেশের বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাকে সহযোগিতা করে যাছেন। যে সমস্ত প্রকল্পের দ্বারা আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে তিনি সেগুলোকে পর্যবেক্ষণ করেন, এরমধ্যে ইস্রায়েলও অর্ন্তভুক্ত, যদিও এই দেশগুলোর মধ্যে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্পর্ক ততোটা উষ্ণ নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রেই বিতর্কিত।
তিনি উল্লেখ করলেন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদক্ষেপের এখন কাজ চলছে। রয়্যাল সায়েন্টিফিক সোসাইটির একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হলো থরানস-
Trans-Mediterranean Renewable Energy Cooperation বা TREC। এটি একটি বহুজাতিক উদ্যোগ - যেটি বাতাস, পানি, ভূ-গর্ভস্থ তাপ ও সৌরশক্তি র মত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ওমান থেকে আইসল্যান্ড পর্যন্ত বিকল্পশক্তির চাহিদা মেটাবে। এ উদ্যোগ যদি সফল হয়, তাহলে এই প্রচেষ্টার সুফল অনুধাবন করতে দশকের পর দশক কেটে যাবে। যেমন মুসা নেবো পাহাড়ের সামনে দাড়িয়ে ছিলেন (যদিও পৌরানিক কাহিনীতে পাহাড়ের অবস্থান সমন্ধে বলা হয়েছে আম্মান থেকে ২০ মিনিটের দূরত্বের কথা যাহা ডাহা মিথ্যা ) সমগ্রকে দেখবেন বলে, ষাট বছর বয়স্ক যুবরাজ নিজেও জানেন বৈজ্ঞানিকভাবে স্বয়ং সম্পূর্ণ দেশ দেখে যাওয়া হয়তো তার পক্ষে সম্ভব হবে না।
‘দৃষ্টিভঙ্গী’ তিনি বললেন, ‘এটি কোন পৃথক বিষয় নয়, এটি একটি সামগ্রিক ব্যাপার’।
আমাকে দুঃখের সাথে বলতে হছে, এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় দুর্দৈব হলো, মেধার ঘাটতি, তিনি স্বীকার করলেন। সমস্ত আরবের সব শিক্ষিত মেধাবীরা মহামারীর মতো দেশের বাইরে চলে যাছেন জীবন যাপনের জন্য, আর যে সব ছাত্ররা বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়তে যান, তাদের অর্ধেকের বেশী কখনও দেশে ফেরেন না। হাসান বললেন, এ্যামেরিকার নাসার অর্ধেকেরও বেশী কর্মজীবি মধ্যপ্রাচ্যের বাসিন্দা।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে জর্দানে মিশরের তুলনায় মেধার অভাব অনেক বেশী দৃষ্টিগোচর হয় কারণ এখানে সম্পদের পরিমান একদম নিম্ন সীমানায় চলে এসেছে। ইসলামী উগ্রপন্থীরা প্রায় ৭০০,০০০ এর ও বেশী ইরাকী উদ্বাস্তুদেরকে জর্দানে আশ্রয় দিয়েছে। ছয় মিলিয়ন লোকের দেশ জর্দানের জন্য এটি খুব বড় একটি বোঝা। এই সংখ্যার ভয়াবহতা তখনই উপলব্ধি করা যাবে, যখন কেউ কল্পনা করবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চার বছরের মতো সময় নিয়ে সেখানে মাত্র ৩৫ মিলিয়ন লোককে ঢুকতে দেয়।
জনসংখ্যার আধিক্য সেখানে মুদ্রাস্ফীতি তৈরী করেছে, ভাড়া এবং সম্পত্তির মূল্য এখন সেখানে আকাশ ছোঁয়া, আর গ্রামগুলো অগোছালো। মিশর, তিউনিসিয়া এবং সিরিয়ার মতো ( এ ব্যাপারে ইস্রায়েলের নামও উল্লেখ করা যেতে পারে) জর্দানের কোন উল্লেখযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ নেই, শুধুমাত্র কিছুটা তেল আর পরিস্কার পানি ছাড়া। বাস্তবে, জর্দানের বেশীর ভাগ নদীর পানিই অন্য নদীতে প্রবাহমান, নদীর পানি আর আরব সমুদ্রে যায় না, এমনকি আরব সাগর দিনে দিনে শুকিয়ে যাছে। সমুদ্রটিতে নতুন করে প্রাণ আনার অনেক পরিকল্পনাই রয়েছে কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য চাই আঞ্চলিক সহযোগিতা, যেখানে ইস্রায়েল আর প্যালেষ্টাইনের অংশ গ্রহনের ব্যাপার রয়েছে। সেই সাথে চাই পশ্চিমা সাহায্য।
জর্দানে অর্থনৈতিক সম্পদেরও অভাব রয়েছে, এখানকার পরিস্থিতি তেল সমৃদ্ধ আরব উপকুলের দেশ গুলো থেকে ভিন্ন যেখানে রকমের জ্ঞান - বিজ্ঞান দ্রব্য মুল্যের মত বিকি-কিনি করা যায়, দরকার হলে বাইরে থাকে আমদানী করার সার্মথ্য ও তাদের আছে। তারচেয়েও বড়ো হলো, বিপদের আশঙ্কা, ২০০৫ সালে সন্ত্রাসীরা আম্মানের তিনটি হোটেলে বোমা ফেলেছে, এবং আল কায়েদা একজন এ্যামেরিকান ডিপ্লোম্যাটকে হত্যা করার কথা স্বীকারও করেছে, এ সমস্ত কিছুই জর্দানীয়ান অর্থনীতির উপর মারাত্বক প্রভাব ফেলেছে যার কারণে জর্দানের একমাত্র উল্লেখযোগ্য আয়ের উৎস পর্যটন, পর্যটক কমে গিয়ে তাদের রাজস্ব আয় ব্যাপকভাবে ব্যাহত হছে।
মজার কথা হলো জর্দান, ইরাক এবং আরো একটি কঠিন জায়গার মধ্যে আটকে আছে। তবে এ মূহুর্তে এদেশটি আরবের মানবাধিকার উন্নয়নের অনেক সমস্যা যা আঞ্চলিক বুদ্ধিজীবিদের অসম চিন্তার কারণে ভুক্তভোগী বলে রিপোর্টে দোষারোপ করা হছে তার একটি মূর্ত প্রতীক। তাদের মধ্যে স্বাধীনতার অভাব আছে এবং এদের অকেজো, প্রভুত্বপরায়ন সরকার যাদের নিরাপত্তাবাহিনীর কাছে সীমাহীন ক্ষমতা দেয়া আছে, যদি পদস্থ কাউকে কেউ চেনে সেটা তার মেধাকে অতিক্রম করে পদোন্নতিতে সাহায্য করে, এবং এই অঞ্চলের গবেষকদের পরস্পরের মধ্যে অত্যন্ত ক্ষীন যোগাযোগ। শিক্ষার সুযোগ এখানে নিতান্তই সীমিত, বিশেষ করে মেয়ে এবং মহিলাদের জন্য। এসব কিছুর মানেই হলো, তুমি যদি একজন মেধাবী বিজ্ঞানী হও, একটা বড় সম্ভাবনা থেকেই যায় যে তুমি একসময় জর্দান ছেড়ে চলে যাবে।
‘বিজ্ঞানের অগ্রগতির জন্য চাই স্থিতিশীলতা, গনতন্ত্র আর মত প্রকাশের স্বাধীনতা ’ বলছিলেন সিনেটর আদনান বাদরান যখন আমরা তার অফিসে বসে টার্কিস চা পান করছিলাম, যিনি মিশিগানের ষ্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে আনবিক জীব বিজ্ঞানের উপর ডি - লিট অর্জন করেছেন।
‘মুক্তচিন্তা চর্চার জন্য, অনুসন্ধিৎসু হবার জন্য মানুষের একটা উপযুক্ত পরিবেশ চাই। সেটা যদি না থাকে কখনই তুমি মানুষের সুপ্ত সম্ভাবনাগুলোকে মুক্ত করার সুযোগ পাবে না। আরব অঞ্চলগুলোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যাপারে এটি খুবই অন্ধকারাছন্ন, নিরাশাময় একটি গল্প’।
তিনি পনেরশ শতাব্দীতে আরম্ভ হওয়া দিশাহীন প্রথাকে এর জন্য দোষারোপ করলেন। আস্তে আস্তে শিক্ষার মান নীচু করে, অন্ধবিশ্বাসের বিস্তার শুরু হলো। আমরা বড় মনের ছিলাম, ইসলামও উদার ছিল, একটি প্রচন্ড বিশ্বাসী সংলাপ। এটি ছিল সহনশীল, অন্য সভ্যতার সাথে সহজেই মিশে যেতে পারতো। এরপরেই আমরা অন্ধবিশ্বাসী হতে শুরু করলাম। তিনি বললেন, ‘ যখনই তুমি গোড়া, তখনই তুমি একটি গন্ডীতে আবদ্ধ ’। যদি তুমি গন্ডীর বাইরে পা রাখ, তুমি একটি প্রান্তে এসে উপস্থিত হও - এবং তখন তুমি মুক্ত, তুমি তখন সুযোগ পেলে পশ্চিমে চলে যাও।

এবং সেটাই বাদরান করেছেন, বিশ বছর ধরে তিনি ফ্রান্সে আর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন, এখানে তিনি ইউনাইটেড ফ্রুট কোম্পানীর জন্য গবেষনা করে চারটি পেটেন্ট অর্জন করেছেন। তার কাজ হলো কলার পেকে যাওয়া বন্ধ করা, যার অর্থনৈতিক গুরুত্ব অসামান্য, বিলিয়ন ডলারের সাশ্রয় হয় এর মাধ্যমে, সম্ভাবনা, কারণ এই জন্যই কোম্পানীগুলো পুরো পৃথিবী জুড়ে তাদের উৎপাদিত খাদ্যশস্য সরবরাহ করার অনুমতি পায়, পচন ছাড়া।
এরপরও বাদরান জর্দানে তার নিজের ভূমিতে ফিরে গিয়েছিলেন, সেখানে তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে কাজ আরম্ভ করেন, এমনকি তিনি আম্মানে অবস্থিত ফিলাডেফিয়া ইউনিভার্সিটিতে প্রেসিডন্টসীর মর্যাদাও ভোগ করেন ১৯৮৭ সালে, তিনিই ছিলেন জর্দানের উচতর পরিষদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের প্রথম সেক্রেটারী জেনারেল, যাকে পরে রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ সিনেটর হিসেবে মনোনীত করেন। তারপর ২০০৫ সালে রাজা তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসবে নিয়োগ করেন, তিনিই ছিলেন প্রথম বৈজ্ঞানিক যিনি প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদা লাভ করেছিলেন। রাজা যিনি সান্ধহুর্স্টের রাজকীয় মিলিটারী একাডেমীতে পড়াশোনা করেছেন, যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন, এবং ওয়াশিংটন ডিসির জর্জটাউন ইউনিভার্সিটিতেও পড়াশোনা করেছিলেন, তিনি বাদরানকে শুধু আরব সমাজের প্রয়োজনে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন?
বাদরান বললেন, আমি সমস্ত কায়েমী স্বার্থ বিনষ্ট করে দিতে চেয়েছিলাম, স্বজনপ্রীতি থেকে পরিত্রান পেতে, আমি জবাবদিহিতা, স্বছতা, সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলাম। বাদরানের সময়ে সেখানকার পরিস্থিতি খুবই নাজুক ছিল, যাইহোক, একজন সাংবাদিক আমাকে জানালেন, বাদরান একজন খুবই উচুদরের শিক্ষিত, বৈজ্ঞানিক কিন্তু রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি ব্যর্থ।


ই পুরো পৃথিবী জুড়েই মানুষের মধ্যে ভাষা এবং সংস্কৃতির অনেক বিভিন্নতা রয়েছে, এই ভিন্নতার মধ্যেই বিজ্ঞান তার নিজস্ব ভাষা ও গতি দিয়ে গোটা বিশ্বজুড়ে কম বেশী তার শক্ত শিকড় গড়ে নিয়েছে। শুধুমাত্র বেশ কয়েকটি ইসলামিক রাষ্ট্র ছাড়া, যেখানে কোরানের আইন আজোও রাজত্ব করছে। আজ আমি ধর্ম আর বিজ্ঞানের দ্বন্দ্বের সেরকম একটি গল্পই বলবো।

২০০৫ সালের নভেম্বরে যখন আত্মঘাতী বোমা হামলা কারীরা আম্মানের তিনটি হোটেলকে তাদের হামলার নিশানা বানালো সেই সাথে বাদরানের পরিকল্পনা নিয়ে সামনে অগ্রসর হবার রাস্তাও বন্ধ হয়ে গেলো। তখন সরকারের সমস্ত মনোযোগ গিয়ে পড়ল দেশের আভ্যন্তরীন উন্নতিকে ছেড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর। দুর্ভাগ্যবশতঃ বাদরানেরও পরিবর্তন হলো। এখানে প্রধানমন্ত্রীকে রাজার পছন্দমতো কাজ করতে হয় এবং অনেকেই বলেন, এতে জর্দানের নিরাপত্তা বাহিনীর মৌন সম্মতিও লাগে। এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে বাদরানকে চাকুরী থেকে বাদ দিয়ে তার পুরনো জায়গায় সিনাটেতে ফেরৎ পাঠিয়ে দেয়া হলো (তার চিন্তাভাবনা সে সময় অতিমাত্রায় ’আদর্শবাদী’ হিসেবে দেখা হয়েছিল)।
বাদরানের পরে আমি জর্দানের সবচেয়ে বেশী প্রাণবন্ত এবং আশাবাদী বৈজ্ঞানিক চিন্তার ব্যক্তিকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পেয়েছি। আম্মানের ইউনেস্কোর প্রধান কার্যালয়ে, নোংরা ও অপ্রশস্থ একটি ঘরে পদার্থবিদ হামেদ তারাউনেহ এর সাময়িক কর্মস্থল, সেখানে দাড়িয়ে আমি সাথে তার কথা বলছিলাম। নিরবিছিন ধূমপায়ী লম্বা - চওড়া কাধের সৌম্য দর্শনের তারাউনেহর ঠোঁটে সব সময় একটি
আন্তরিকতার হাসি ঝুলে থাকে, বহু বছর আগে তিনি তার পিএইচডি এর জন্য সুইডেনে এ পাড়ি দেন, আমাদের এই সাক্ষাতের কিছু দিন আগেই মাত্র তিনি জর্দানে পদার্পন করেছেন। তিনি
SESAME (Synchrotron-light for Experimental Science and Applications in the Middle East) এর জন্য প্রকৌশলী এবং প্রযুক্তিবিদদের সমন্নিত করার একটি প্রকল্প নিয়ে ব্যস্ত। এটি একটি আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন গবেষনাগার যেখানে পদার্থ বিজ্ঞান, জীব বিজ্ঞান, ঔষধ এবং প্রত্নতত্ত্ব সমন্ধে গবেষণা করার অনেক সুযোগ ও যন্ত্রপাতি আছে। মুসলিম বিশ্বে এই প্রথম এমন বহুমুখী সুযোগ সম্পন্ন গবেষনাগার তৈরী হছে পরবর্তী প্রজন্মকে আলোকিত করার জন্য।

রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ
SESAME-এর জন্য জমি এবং প্রতিষ্ঠানটি চলার জন্য প্রায় দশ মিলিয়ন ডলারের সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করাতে জর্দানকেই SESAME এর মনোনীত করা হয়েছিল। এই প্রকল্পটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের চিরাচরিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার প্রথা পুনরুদ্ধারের জন্য তৈরী করা সুইটজারল্যান্ড এর উচ ক্ষমতা সম্পন্ন পর্দাথ বিজ্ঞানের গবেষণাগার ছড়ৈণ এর আদলে বানানো। আশা করা যায় ২০০৯ সালে যখন SESAME পুরোপুরি চালু হবে, এই বছরের জুনের মধ্যে আম্মানের নিকটে আল-বালকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন বিভাগে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের সব সুযোগও চলে আসবে, গবেষকরা ঘুরে ঘুরে তাদের কাজ করবেন পুরো সপ্তাহ জুড়ে - লম্বা অধিবেশনে। ইউরোপীয়ান আদলের মতো SESAME-এর একটা অংশও আশে পাশের সব উজ্জল প্রতিভাবানদেরকে নিয়ে কাজ করতে চায়, নইলে যারা বিদেশ থেকে দেশে ফিরবে তাদের জন্য সম্ভাবনাময় ও আর্কষনীয় সুযোগ সৃষ্টি করবে যা পরবর্তী তরুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানের প্রতি উৎসাহী ও আগ্রহী করে তুলবে।
তারাউনেহ আশা করছেন অচীরেই
SESAME জ্ঞান-বিজ্ঞানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনত হবে বিশেষ করে সেসব সদস্যদের জন্য যারা বাৎসরিক ব্যয় ভার বহন করছেন, একটি দল যার মধ্যে আছে বাহরাইন, মিশর, পাকিস্তান, তূর্কী ও প্যালেষ্টাইন এর সরকার জড়িত আছে, এবং ইস্রায়েল, যেটি একমাত্র দেশ যাদের একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ রয়েছে, তথাপি তারা তথাপি তারা আমাদের থেকে জনবিছিন্ন। তারাউনেহ বললেন, ‘আমরা বিজ্ঞানী’। ‘আমরা রাজনীতির তোয়াক্কা করি না, আমাদের এখন সুযোগ হয়েছে জ্ঞান - বিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা করার এবং সবার মঙ্গলের স্বার্থে জ্ঞানের আলো জ্বালার। আরম্ভটা খুবই চমৎকার। এটি একটি বহুজাতিক পরিবেশ, যেটার প্রচন্ড অভাব ছিল আমাদের। এখন আমরা একে অপরকে বিজ্ঞানী হিসবে, মানুষ হিসেবে জানতে পারব।
আমি তাদের নিয়েও চিন্তা করি- সেই সব মহাবিজ্ঞানীরা যারা জর্দান পরিত্যাগ করে চলে গেছেন কিংবা জর্দানকে সম্ভাবনাহীন বলে উল্লেখ করেছেন, তাদের সম্পর্কে।

‘আমি যদি বার্কেলে চলে যাই তাহলে কি আমি বেশী আয় করব’? তারাউনেহ জিজ্ঞেস করলেন? হ্যা, অবশ্যই, কিন্তু আমি এ জায়গার। আমি আরবের, আমি মুসলমান। এখানেই আমি থাকতে চাই। আর কেনই আমরা নিজেরা আমাদের নিজস্ব কিছু তৈরী করতে পারব না? আগামী পাচ বছরে অন্যরা দেখবে এটা কতো ফলপ্রসু হয়েছে। এবং এটা বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞানীদের কৌতুহল মেটানোর জায়াগা এবং বৈজ্ঞানিক সংস্কৃতি তৈরীর সেতু হিসেবে কাজ করবে। বিজ্ঞানের পথেই দূরত্ব অতিক্রম করা সম্ভব। এটি পৃথিবীর মানুষের উন্নতি এবং অগ্রগতির সোপান।
তারাউনেহ এর আগ্রহ এবং উৎসাহের জন্য
SESAME এর সাফল্য অনিবার্য। কিন্তু রাজার সাহায্য আর প্রকল্পটির আর্ন্তজাতিক চরিত্র এটিকে শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির সাফল্য থেকে অনেক বড় করে তুলেছে। এটি ঠিক সেই ধরনের একটি আঞ্চলিক প্রকল্প যেটিকে সেই এলাকার লোকজন বিশেষ পছন্দ করে, যুবরাজ হাসান বলছিলেন আরব বিশ্বের শান্তি ও অগ্রগতির জন্য এটিই আসল রোড ম্যাপ। যন্ত্র এবং কল্পনার একটি সংমিশ্রন যেহেতু, দ্রুত ও জোর গতিতে বৈজ্ঞানিক জগতের দিকে রশ্মি ফেলছে, হয়তো এটি সবার প্রার্থনারই ফসল।
 

তানবীরা তালুকদার

  ভাবনা-দুয়ার